• শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ০৯:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কোরআন মজিদের ৪০ আয়াতে আল্লাহ-ও রাসুলের নাম একসাথে পাশাপাশি লিখা ভোলায় মুক্তবুলি ম্যাগাজিনের প্রাণবন্ত সাহিত্য আড্ডা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সাহায্য করাও ইবাদত টার্মিনেটর খ্যাত সাবেক হলিউড সুপারস্টার আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার ভিয়েনায় উত্তর কোরিয়া-রাশিয়ার পরষ্পরের প্রতিরক্ষা সুরক্ষার অঙ্গীকার চরফ্যাশনে বজ্রপাতে কৃষক নিহত চরফ্যাশন দর্শনীয় স্পটগুলোতে পর্যটকদের ঢল ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে প্রচণ্ড বিক্ষোভ গ্রিসে উচ্চ তাপমাত্রা, শুষ্কতা এবং শক্তিশালী বাতাসের কারণে সহজে দাবানল সৃষ্টি হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৫০ বছরের চুক্তি নবায়নে অনিহা সৌদি আরবের
বিজ্ঞপ্তি
প্রিয় পাঠক আমাদের সাইটে আপনাকে স্বাগতম এই সাইটি নতুন ভাবে করা হয়েছে। তাই ১৫ই অক্টোবর ২০২০ সাল এর আগের নিউজ গুলো দেখতে ভিজিট করুন : old.bdnewseu24.com

চোখের জলে ভিজিয়ে রেখেছি আমার বাবার চাদর

নাঈম হাসান পাভেল, লিসবন (পর্তুগাল) থেকে
আপডেট : শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০

চোখের জলে ভিজিয়ে রেখেছি আমার বাবার চাদর!

দেশ ছাড়ার আগের দিন শেষ বিকেলে বাবা দাঁড়িয়ে আছেন বাড়ির আঙ্গিনায়, আমি গেলাম ছেড়ে যাওয়ার আগে বাবার সাথে শেষ কিছু কথা বলবো! বাবার সাথে আমার কথাগুলো সবসময়ই ছিলো অনেক সুন্দর, আমার জীবনের সেরা সময় যেন তখন পার করতাম, দুজন স্বপ্নবাজ মানুষ! বাবা কত রঙ্গিন স্বপ্ন আমাকে নিয়ে আর আমিও বুকভরে বাবার মনে আশার সঞ্চার করতাম।

“আমাকে দেখেই বাবা মুখে এক ঝলক হাসি নিয়ে বললেন তুমি এখানে, আমি বললাম আপনার সাথে কথা বলতে এলাম। শীতের বিকেল ছিলো বাবার পরনে ছিলো বাবার পছন্দের কাশ্মীরি শাল! শাল মোড়ানো বাবার সেদিনের সেই হাসিমাখা মুখ এখনো যেন আমার চোখে ভাসছে।

সেদিন বিকেলে অনেক কথা হলো আমাদের, বাবা তার অনেক স্বপ্নের কথা আমাকে বলতেন, আর এসব বলার সময় বাবার চোখেমুখে আমি একবুক আশার উচ্ছাস দেখতে পেতাম। আমার বেশ ভালো লাগতো। উনি আমাকে সবচেয়ে বেশী আদর করতেন আর আমার উপর ছিলো তার অগাধ বিশ্বাস। মনে করতেন একদিন আমি উনার সব স্বপ্নগুলো সত্যি করবো।

আমাকে কখনো এটা বলেননি আমার কি করতে হবে, তবে শুধু এটুকু বলতেন আমি সবার বড় আমার দায়িত্ব অনেক! একুটুই। এখন বুঝি বাবা কেন বারবার এই কথা বলতেন, বাবা যে আমাকে ছেড়ে দ্রুত চলে যাবেন সেজন্যই হয়তো বারবার একথা বলেছেন। সেদিন বিকেলেই আমাদের শেষ বেশী সময় কথা হয়েছিলো! কতো কথা বলেছি সেদিন আমরা।

আমাকে দেশ থেকে শেষ বিদায়ের দিন বাবাকে আড়ালে গিয়ে চোখ মুছতে দেখেছি, আমার জীবনে বাবাকে কখনো কাঁদতে দেখিনি, সেদিনই বাবাকে প্রথম কাঁদতে দেখেছি! নিজের শিকড় ছেড়ে নতুন একটা পথে পাড়ি দেওয়া আর স্বজন ছেড়ে বাইরে থাকার মর্ম আমি সেদিন না বুজলেও বাবা ঠিকই বুঝেছেন! সেজন্যই হয়তো আদরের বড় ছেলের জন্য নীরবে কান্না করেছেন।

আমি অভাগা সন্তান! বাবার এই ভালোবাসার কি প্রতিদান দিবো। বাবা আমার জীবনে যা চেয়েছি কোনোদিন কোনকিছুতে না করেননি। জীবনে স্বপ্ন ছিলো বাবার জন্য কত কি করবো, কিন্তু কি হয়ে গেলো! জীবনের প্রথম রোজগার করা টাকা যখন পাঠাবো সেদিন পেলাম বাবার মৃত্যুর সংবাদ! কাছের এক আত্মীয় দেশে যাবেন, বাবাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম তার জন্য কি পাঠাবো, বাবা একটা শার্ট চেয়েছিলেন.. যে রাতে বাবার জন্য শার্ট কিনতে যাবো সে রাতেই পেলাম বাবার মৃত্যুর সংবাদ।

বাবার কাছে ব্যক্তিত্ব ছিলো সবকিছুর আগে! বাবাকে কোনোদিন কারো কাছে কোনোকিছু চাইতে দেখিনি! আমার স্মরণে পড় এক দাদুর কাছে চাওয়া এই শাল আর আমার কাছে চাওয়া শার্ট, যেটি আমি পূর্ণ করতে পারিনি।

“মাকে বলেছিলাম বাবার কাপড়গুলো যেন আলনায় ঠিক আগের মতোই ভাঁজ করে রাখে। কখনো ফিরে যদি বাবার একটু গন্ধ আমি পাই। আমার যে আর তাকে কখনো জড়িয়ে ধরার সৌভাগ্য হবে না। আমি যখন ফিরে গেলাম, সেদিন বিকেলে বাবার পরা সেই শালটা পেলাম, এই শাল এখন আমার সারাজীবনের সঙ্গী। বাবাকে মনে পড়লেই এই শালটা বের করে বুকে ধরি। মনে হয় বাবার গন্ধ লেগে আছে এই মায়ার শালে। চিরকাল আমার বাবার ছায়া হয়ে থাকবে এই শাল।

আমার বাবাকে কখনো কারো উপর রাগ করতে দেখিনি, কারো পিছনে কথা বলাকে সবচেয়ে বেশী ঘৃণা করতেন তিনি, মিথ্যা বলা ঘৃণা করতেন। এক পৃথিবীর বিনিময়ে হলেও নিজের ব্যক্তিত্বকে রেখেছেন সবার উপরে। বাবা সবসময় ছিলেন উদার, নিজের যা আছে তারচেয়েও বেশী মানুষকে দেয়ার একটা মানসিকতা আমার বাবার ছিলো। আর সবচেয়ে বড় গুণটি ছিলো বাবা কোমল আর সরল হৃদয়ের, কখনো কাউকে কষ্ট দিতেন না। আমি বড় হিসেবে বাবার সাথে বেশী সময় কাটতো, আর মানবিক এসব গুণাবলী গুলো বাবার কাছ থেকে আমি ছেলেবেলা থেকেই গ্রহণ করেছি। আমার জীবনে উত্তম আদর্শ আমার বাবা।

এইতো সেদিনের আহাজারি, ২০১৬ সালের ০৪ ডিসেম্বর বাবাকে যখন চিরতরে হারানোর খবরটি পেলাম আজও আমার হৃদয়ের রক্তক্ষরণ থামেনি, আমৃত্যু যেটা থাকবেও না। বাবা মারা যাওয়ার আগের দিন বিকাল হতেই আমার শরীরের সকল শিরা উপশিরায় জানা হয়ে গিয়েছিলো কি যেন হারাচ্ছি আমি, কিছুতেই সেই সময়টাতে আমি শান্ত হতে পারছিলাম না। জানি না মা-বাবা হারানোর সময় কোনো সন্তান এই উপলব্ধি করে কিনা, তবে আল্লাহর হুকুম আমি সেই সময়ে অন্যরকম এক বেদনার অনুভূতির মধ্য দিয়ে পার করেছি এখনো সেই সময়টা মনে এলে আমার শরীর শিউরে উঠে কান্না চলে আসে, আমি নিস্তব্ধ হয়ে যাই।

আজ বাবার চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে সবার কাছে আমার বাবার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি, সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন। পৃথিবীর সকল মা-বাবাকে আল্লাহ হেফাজত করুক, যারা মা-বাবা হারিয়ে এতিম হয়েছেন তাদেরকে আল্লাহ অনুগ্রহ করুন। জান্নাতে বাবার সাথে দেখা হবে এই স্বপ্নে বিভোর আমি। রাব্বির হামহুমা কামারাব্বায়ানি সাগীরা)
বিডিনিউজ ইউরোপ/৫ ডিসেম্বর / জই


আরো বিভন্ন ধরণের নিউজ