• বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ০৩:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শেনজেন ভিসা ফি ১২শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে জুলাই থেকে কার্যকর ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে ৩ দেশের স্বীকৃতি তেহরানে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট রাইসির জানাজা পড়ালেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ইমাম খামেনি শহরের কেন্দ্রস্থল এথেন্সের বাড়িতে আগুনে বৃদ্ধ ভাইবোন নিহত আগামীকাল বৃহস্পতিবার একাডেমিয়ার মিউনিসিপ্যালিটি মিউজিক থিয়েটারে লাইভ কনসার্ট হবে ভোলায় তিন উপজেলার নবনির্বাচিত তিন চেয়ারম্যান মালয়েশিয়ায় বিশেষ ব্যবস্থাপনায় কনস্যুলার সেবা প্রদানের উদ্যোগ হাইকমিশনের ঝালকাঠিতে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে উপজেলা নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে যারা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন রাইসির মৃত্যুতে বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার একদিনের শোক ঘোষণা
বিজ্ঞপ্তি
প্রিয় পাঠক আমাদের সাইটে আপনাকে স্বাগতম এই সাইটি নতুন ভাবে করা হয়েছে। তাই ১৫ই অক্টোবর ২০২০ সাল এর আগের নিউজ গুলো দেখতে ভিজিট করুন : old.bdnewseu24.com

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী নায়ক ফারুক আর নেই

কবির আহমেদ কূটনৈতিক বিশ্লেষক আন্তর্জাতিক ডেক্স থেকে বিডিনিউজ ইউরোপ
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৬ মে, ২০২৩

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী নায়ক ফারুক আর নেই।ফারুকের মৃত্যুতে প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।বাংলাদেশের তথা পুরান ঢাকাই সিনেমার কিংবদন্তি চিত্রনায়ক ও ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠান দুলু (ফারুক) আর নেই। আজ সোমবার (১৫ মে) সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

“ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।”

মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ছেলে রওশন হোসেন পাঠান শরৎ। মঙ্গলবার (১৬ মে) ভোরের ফ্লাইটে চিত্রনায়ক ফারুকের মরদেহ ঢাকায় আনা হবে।

বাংলা চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত অভিনেতা ও ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠানের (ফারুক) মৃত্যুতে গভীর শোক  প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সোমবার (১৫ মে) এক শোক বার্তায় রাষ্ট্রপ্রধান মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট ১৯৪৮ মানিকগঞ্জ
জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ফারুক। তার বাবা আজগার হোসেন পাঠান। এ নায়কের শৈশব-কৈশোর ও যৌবনকাল কেটেছে পুরান ঢাকায়। পাঁচ বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট।

প্রথম জীবনে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ফারুক। ১৯৭১ সালে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক। ১৯৭৩ সালে খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘আবার তোরা মানুষ হ’, ১৯৭৪ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘আলোর মিছিল’ দুটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্রে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

এরপর ১৯৭৫ সালে গ্রামীণ পটভূমিতে নির্মিত ‘সুজন সখী’ ও ‘লাঠিয়াল’ দুটি ব্যবসাসফল ও আলোচিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এবং সে বছর ‘লাঠিয়াল’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব চরিত্রে অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৭৬ সালে মুক্তি পায় তার অভিনীত ৩টি সিনেমা সূর্যগ্রহণ, মাটির মায়া ও নয়নমনি। আর এই চলচ্চিত্র ৩টি বিভিন্ন বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। পরের বছর শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত কালজয়ী উপন্যাস ‘সারেং বৌ’ অবলম্বনে নির্মিত ‘সারেং বৌ’ ও আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

এ চলচ্চিত্র দুটি নারীকেন্দ্রিক হলেও তার অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে। ১৯৭৯ সালে তার অভিনীত নাগরদোলা, দিন যায় কথা থাকে, কথা দিলাম, মাটির পুতুল, সাহেব, ছোট মা, এতিম, ঘরজামাই চলচ্চিত্রগুলো ব্যবসা সফল হয়।

১৯৮০ সালে ‘সখী তুমি কার’ ছায়াছবিতে শাবানার বিপরীতে শহুরে ধনী যুবকের চরিত্রে অভিনয় করে সমালোচকদের প্রশংসা লাভ করেন। ১৯৮৭ সালে মিয়া ভাই চলচ্চিত্রের সাফল্যের পর তিনি চলচ্চিত্রাঙ্গনে মিয়া ভাই হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

নায়ক ফারুক ‘সুজন সখী’, ‘নয়নমনি’, ‘সারেং বৌ’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সাহেব’, ‘আলোর মিছিল’, ‘দিন যায় কথা থাকে’সহ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত বেশির ভাগ চলচ্চিত্রই ব্যবসা সফল হয়। চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৬ তাকে আজীবন সন্মাননা দেয়া হয়।

অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত ফারুক। চলচ্চিত্রের মানুষের কাছে তিনি সবার প্রিয় ‘মিয়াভাই’।

ব্যক্তিগত জীবন:

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী নায়ক ফারুক বিবাহিত ছিলেন। মৃত্যুর সময় রেখে গেছেন স্ত্রী
ফারজানা পাঠান,কন্যা ফারিহা তাবাসসুম পাঠান ও পুত্র রওশন হোসেন পাঠান শরৎ।

অসুস্থতা:

উল্লেখ্য যে, ২০১২ সালের জুলাইয়ে নায়ক ফারুক এক মাস ধরে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।ফারুক দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত রোগে ভুগছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০১৩ সালের ৩০শে আগস্ট সিঙ্গাপুরে যান ও সেখানকার মাউন্ট এলিজাবেথ হসপিটালে ভর্তি হন। চিকিৎসা শেষে ২০১৪ সালের ৭ই জানুয়ারি তিনি দেশে ফিরে আসেন। ২০২০ সালের ১৮ আগস্ট আবার তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ভীষণ জ্বর নিয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

তারপর ২০২১ সালের ১৫ই মার্চ খিচুনি হওয়ার পরে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। গত ১৮ মার্চ অবস্থার উন্নতি হলেও ২১ মার্চ আবার অচেতন হলে আইসিইউতে নেয়া হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। অবশেষে সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ১৫ মে ২০২৩ সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের জাতীয় সংবাদ মাধ্যম ও উইকিপিডিয়া

বিডিনিউজ ইউরোপ২৪ডটকম/১৬মে/জই


আরো বিভন্ন ধরণের নিউজ