• সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ঝালকাঠি এলজিইডি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে উপজেলা প্রকৌশলীদের কর্ম-সম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর তুরস্ক আমাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে: গ্রিক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী গ্রিসে মাইকোনোস দ্বীপের বাড়ির দামের শীর্ষে রয়েছে এথেন্সের আইকনিক হিলটন হোটেলের নাম পরিবর্তন করে ‘দ্য ইলিসিয়ান’ করা হয়েছে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গবেষণায় আকর্ষণ বাড়াতে হবে ভোলার বোরহানউদ্দিনে ১৩ জন জুয়ারী আটক কোরআন মজিদের ৪০ আয়াতে আল্লাহ-ও রাসুলের নাম একসাথে পাশাপাশি লিখা ভোলায় মুক্তবুলি ম্যাগাজিনের প্রাণবন্ত সাহিত্য আড্ডা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সাহায্য করাও ইবাদত টার্মিনেটর খ্যাত সাবেক হলিউড সুপারস্টার আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার ভিয়েনায়
বিজ্ঞপ্তি
প্রিয় পাঠক আমাদের সাইটে আপনাকে স্বাগতম এই সাইটি নতুন ভাবে করা হয়েছে। তাই ১৫ই অক্টোবর ২০২০ সাল এর আগের নিউজ গুলো দেখতে ভিজিট করুন : old.bdnewseu24.com

চিম্বুকে পাঁচতারকা হোটেল নির্মাণের প্রতিবাদে লাল কার্ড প্রদর্শন

বিডিনিউজ ইউরোপ রাজনৈতিক ডেক্স
আপডেট : শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০

চিম্বুকে পাঁচতারকা হোটেল নির্মাণের প্রতিবাদে লাল কার্ড প্রদর্শন

বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে পাঁচতারকা হোটেল নির্মাণ বন্ধ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও জেলা পরিষদের মধ্যে অবৈধ লিজ চুক্তি বাতিল পূর্বক ম্রোদের ভূমি ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে চট্টগ্রাম নগরীতে লাল কার্ড মিছিল ও সমাবেশ করেছে ৪ পাহাড়ি গণতান্ত্রিক সংগঠন। আজ (২৭ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ৩ টায় ৪ (চার) পাহাড়ি গনতান্ত্রিক সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম.পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ. হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘ যৌথভাবে সমাবেশ আয়োজন করে। সমাবেশের পূর্বে একটি লাল কার্ড মিছিল প্রদর্শন করা হয়। লাল কার্ড মিছিলটি ডিসি হিল নন্দনকানন মোড় সামনে থেকে শুরু হয়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে চেরাগী পাহাড় মোড়ে এক সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশের সভাপতির বক্তব্যের পূর্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও জেলা পরিষদের মধ্যে অবৈধ লিজ চুক্তিকে বাতিলের দাবি জানিয়ে অবৈধ লিজ চুক্তির কপি পুড়িয়ে দেয়া হয়। এতে পিসিপি চবি শাখা নেতা সোহেল চাকমা’র সঞ্চালনায় গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের মহানগর নেতা উচিংশৈ চাক (শুভ) সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষক ডাঃ মাহফুজুর রহমান, প্রগতিশীল চিকিৎসক ডাঃ সুশান্ত বড়ুয়া, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল(পূর্ব-৩)-নেতা সামিউল আলম রিচি, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসান মারুফ রুমি, বাসদ মার্কসবাদী চট্টগ্রাম অঞ্চলের নেতা এডভোকেট শফিউদ্দিন কবির আবিদ, আইনজীবি এডভোকেট বিষুময় দেব, বিএমএসসি’র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি উথোয়াই মারমা, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের নেতা নিশান চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সহ-সভাপতি পিংকি চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য রেশমী মারমা প্রমুখ।

বিশিষ্ট মক্তিযোদ্ধা ও গবেষক ডাঃ মাহফুজুর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল বাংলাদেশের সকল জাতিগোষ্ঠীকে মর্যাদা দিয়ে রক্ষা করা। তাই তিনি সরকারের কাছে আহ্বান জানান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অক্ষুন্ন রাখতে পাহাড়িদের ভূমি অধিকার সহ তাদের জীবন মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রগতিশীল চিকিৎসক ডাঃ সুশান্ত বড়ুয়া বলেন, দেশের মানুষ পাহাড়কে পাহাড়ের রুপে, তার প্রকৃতিকে এবং প্রকৃতির বৈশিষ্ঠ্যকে উপভোগ করতে ভালোবাসে। তাই পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশকে অক্ষুন্ন রাখতে ভূমিদস্যুদের কবল থেকে পাহাড়ের ভূমি ও ভূমিপুত্রদের রক্ষা করতে হবে।

গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসান মারুফ রুমি বলেন, সরকার ও সেনাবাহিনী সেখানকার কিছু ম্রো জনগোষ্ঠীকে ভয় ও লোভ দেখিয়ে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ভূমি আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে যা সরকারের ভূমি সন্ত্রাসের চিত্র ফুটে উঠেছে।
সামিউল আলম রিচি বলেন, ডেমোগ্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর নাম করে পাহাড়ের ভূমি বেদখলের ষড়যন্ত্রকে সরকার ভয়ংকর রূপ দিয়েছে।

এডভোকেট শফিউদ্দিন কবির আবিদ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন করতে হলে পাহাড়ের মানুষকে সাথে নিয়ে, তাদের জীবন জীবিকার স্বার্থকে উর্ধ্বে রেখে তাদের অধিকার আগে নিশ্চিত করতে হবে। শুধু মুনাফার লোভে তাদের অধিকার খর্ব করা হলে তা ভূমি দস্যুতার রূপ নেবে।

সমাবেশের সভাপতি শুভ চাক সরকারের কাছে ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন- (১) অনতি বিলম্বে চিম্বুক পাহাড়ে পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণ বন্ধ করে ম্রোদের ভূমি ফিরিয়ে দিতে হবে (২) চিম্বুক পাহাড়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও জেলা পরিষদের মধ্যে অবৈধ লিজ চুক্তি বাতিল করতে হবে। (৩) এ যাবৎ তিন পার্বত্য জেলায় জেলা পরিষদ কর্তৃক বেআইনীভাবে অবৈধ লিজ চুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। (৪) বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য জেলায় পাহাড়ি জনবসতি উচ্ছেদ ও জমি জবরদখল করে পর্যটন বা উন্নয়ন প্রকল্প সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে। (৫) পার্বত্য চট্টগ্রামে বেআইনি বহিরাগত পুনর্বাসন বন্ধ করতে হবে। (৬) স্বৈরাচারী এরশাদ ও জিয়াউর রহমানের আমলে বেআইনীভাবে নিয়ে আসা সেটলারদের সমতল জেলায় সম্মানজনকভাবে পুনর্বাসন করতে হবে। (৭) পাহাড়িদের প্রথাগত ভূমি আইনের স্বীকৃতি দিতে হবে।
বিডিনিউজ ইউরোপ/২৭ নভেম্বর/জই


আরো বিভন্ন ধরণের নিউজ