• শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কোরআন মজিদের ৪০ আয়াতে আল্লাহ-ও রাসুলের নাম একসাথে পাশাপাশি লিখা ভোলায় মুক্তবুলি ম্যাগাজিনের প্রাণবন্ত সাহিত্য আড্ডা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সাহায্য করাও ইবাদত টার্মিনেটর খ্যাত সাবেক হলিউড সুপারস্টার আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার ভিয়েনায় উত্তর কোরিয়া-রাশিয়ার পরষ্পরের প্রতিরক্ষা সুরক্ষার অঙ্গীকার চরফ্যাশনে বজ্রপাতে কৃষক নিহত চরফ্যাশন দর্শনীয় স্পটগুলোতে পর্যটকদের ঢল ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে প্রচণ্ড বিক্ষোভ গ্রিসে উচ্চ তাপমাত্রা, শুষ্কতা এবং শক্তিশালী বাতাসের কারণে সহজে দাবানল সৃষ্টি হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৫০ বছরের চুক্তি নবায়নে অনিহা সৌদি আরবের
বিজ্ঞপ্তি
প্রিয় পাঠক আমাদের সাইটে আপনাকে স্বাগতম এই সাইটি নতুন ভাবে করা হয়েছে। তাই ১৫ই অক্টোবর ২০২০ সাল এর আগের নিউজ গুলো দেখতে ভিজিট করুন : old.bdnewseu24.com

ইসলামকে ব্যবহার করে অপরাজনীতি-ব্যবসা বন্ধ হোক : জাফর মুহাম্মদ

গোলাম মোস্তফা রাজনৈতিক প্রতিবেদক ঢাকা
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২১

ইসলামকে ব্যবহার করে অপরাজনীতি-ব্যবসা বন্ধ হোক : জাফর মুহাম্মদ

ছাত্র রাজনীতি করার সময় এক বড় ভাই প্রায়ই বলতেন, “জাফর- আন্দোলন করে হিরো হওয়াটা অনেক সহজ, স্রোতের তোড়ে ভাসিয়ে নিয়ে যায় আন্দোলন কিন্তু পলিটিক্স করাটা অনেক কঠিন। দিনের পর দিন রুটিন ওয়ার্ক করতে হয়। ত্যাগের কোন তালিকা হয়না, বোরিং সব কাজ সামাল দিতে হয়।” আমি ছাত্র রাজনীতির পর রাজনীতি ছেড়েছি বটে তবে এই রকম শিক্ষাগুলো রয়ে গেছে। আজকে অন্য একটা ঘটনায় কথাটা মনে পড়লো। আমি ভাবতেছিলাম ফেসবুকে যেকোন সেলিব্রেটির কমেন্ট বক্সে গেলে এমনকি বিখ্যাত সব পেজের কমেন্টে গেলে একটা বড় অংশের কমেন্ট পাবেন যারা সেখানে ধর্ম প্রচার করছেন। মিথিলাকে নামাজ পরতে বলছেন, পর্দা করতে বলছেন। মনের কৌতূহল মেটাতেই আমি কমেন্টকারীদের আইডিতে গিয়ে দেখি তারা কী পোস্ট করেছেন, বায়োতে কী দেওয়া। এসব দেখে আমি তাদের রুচি বোঝার চেষ্টা করি। অনেকাংশেই অশিক্ষিত বলে মনে হয় আবার শিক্ষিত মানুষের হারটাও কম না। আমি আরেকটু বোঝার চেষ্টা করি যে এই মানুষগুলো ব্যক্তি জীবনে কেমন? খোঁজার চেষ্টা করি আমার পরিচিত সার্কেলে কারা এই ধরনের কমেন্ট করে। তাদের স্টাডি করতে গিয়ে বেশ আজব হয়ে যাই। ধরুন যে ফেসবুকে দ্বীনের দাওয়াত দিচ্ছে সে নিজের ব্যক্তিজীবনে সৎ না বরং বলা যায় হিপোক্রেট। কেউ কেউ চুড়ান্ত মাত্রায় খেলারাম হয়েও ফেসবুকে নিবেদিত প্রাণ ধর্ম প্রচারক।
আবার ধরুন কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাই করার আগেই কিংবা কোনো ইস্যুতে একদল মানুষ দেখবেন মাঠে নেমে গেছে স্লোগান দিতে দিতে। যাদের প্রায়ই সময় বলা হয় তৌহিদি জনতা। জোহরের নামাজে যতোজন মুসল্লি পাওয়া যায় না তার কয়েকগুণ পাবেন তৌহিদি জনতার মিছিলে? কেন?
আসলে একজন ভাল মুসলমান হওয়া কিংবা মুমিন হওয়ার জন্য প্রতিদিন রুটিন মাফিক চলতে হয়। চুরি-দুর্নীতি করা যায় না। নিজের পিতারও আয়ের উৎস নিয়ে সন্দিহান হতে হয়। নামাজ-রোজার বাইরেও জানতে হয় ‘হাক্কুল্লাহ এবং হাক্কুল ইবাদ’। নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত এর মাধ্যমে হাক্কুল্লাহ আদায় হলেও হাক্কুল ইবাদ বা সৃষ্টির হক আদায় করা কঠিন। শুধু হাক্কুল ইবাদ নয় বরং যে ইনসাফের আবেদন নিয়ে ইসলাম প্রচারিত হয়েছিল সেই ইনসাফের লড়াইটাও দৈনন্দিন। শুধু মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই নয় বরং মানুষের যাপনের সাথে প্রকৃতির অপরাপর হিস্যাদারদের সাথে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা এবং প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষার লড়াইটাও ইসলামের অংশ।
সূরা বাকারার ১৩৮ নং আয়াতে আল্লাহ বলছেন, “তোমরা আল্লাহর রঙে রঙিন হও। তোমাদের মধ্যে আর কে আছে যে আল্লাহ অপেক্ষাও অধিক রঙিন।”
এই আয়াতের ব্যাপারে মওলানা ভাসানী বলেছিলেন আল্লাহর রঙে রঙিন হওয়া মানে পালনবাদের চর্চা করা। আল্লাহ যেমন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ এবং অন্যান্য প্রজাতির রিজিকের ব্যবস্থা করেন, পালন করেন তেমনি মানুষও চর্চা করবে রবুবিয়াতের। লড়াই করবে ইনসাফের জন্য, ভালবাসার আলোয় আলোকিত করবে সমগ্র পৃথিবী। এই চর্চাটা সহজ নয় বরং এর চেয়ে ঢের সহজ ফেসবুকে ধর্ম প্রচার করা। একে ওকে নাস্তিক ট্যাগ দিয়ে দেওয়া। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত খোদার দরবারে হাজিরা দেওয়ার তুলনায় একদিন নাস্তিক-মুরতাদ ট্যাগ দিয়ে কারো কল্লা ফেলে দেওয়া সহজ।

যে রাষ্ট্রে বসবাস করছি সেই রাষ্ট্রের ইনসাফের ভিত্তিতে রূপান্তরের লড়াই অপেক্ষা মিথিলার পোস্টে কিংবা নুসরাত ফারিয়ার পোস্টে নামাজ পরতে বলার কমেন্ট করা কিংবা তাদেরকে জাহান্নামি বলে ঘোষণা দেওয়াটাও সহজ। আমি নিজে সব সময় প্রশ্ন করতে পছন্দ করি সেই জায়গা থেকেই আমি চেষ্টা করি উত্তরগুলো খোঁজার। শুধুমাত্র ভেবে ভেবে উত্তর বের করা সম্ভব নয়। ভাবনার রসদ হিসেবে প্রয়োজন অন্যদের ভাবনাগুলো জানা। সুন্নী মুসলমানগণ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনীর পড়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন খুলাফায়ে রাশেদীন বা ইসলামের প্রথম চার খলিফাকে। মজার বিষয় হচ্ছে চার খলিফার জীবনের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়গুলো ঢেকে রেখে শুধুমাত্র কে কত দান করেছেন কিংবা কতদিন না খেয়ে ছিলেন তা বর্ণনা করা হয়।
খলিফা উমর (রা) এর তরবারির জোরের কথা বলা হলেও তার জনগণের সেবক হিসেবে যে ভূমিকা সেইসাথে একজন রাষ্ট্রনেতা হিসেবে যে রাজনৈতিক চিন্তা তা সামনে আনা হয় না। যার উপাধি ফারুক অর্থাৎ সত্য-মিথ্যার প্রভেদকারী তাকে কি শুধুমাত্র ব্যক্তি জায়গা থেকে বিশ্লষণ করা সম্ভব?
খুলাফায়ে রাশেদীনের শেষ খলিফা ইমাম হযরত আলী (রা) ছিলেন সুবক্তা এবং সাহিত্যিক। নিজে লিখেছেন দিওয়ান-ই-আলী। অনুবাদ করেছেন দর্শন বিষয়ক বই।
মসজিদে নববীতে হতো সাহিত্য চর্চা। রাসুল (সা.)-এর সাহাবি কবিদের মধ্য থেকে হজরত হাসসান ইবনে সাবিত (রা.)-কে সভাকবির মর্যাদা দিয়েছিলেন। তাঁকে বলা হতো ‘শায়েরুর রাসুল’ বা রাসুলের কবি। মসজিদে নববীতে মিম্বর বরাদ্দ ছিল তার জন্য।
ভাবনার খোরাক হিসেবে আমি যখন এসব জানছি কিংবা জানার চেষ্টা করছি ঠিক তখনই আমাকে নাস্তিক ট্যাগও খেতে হচ্ছে বাল্যবন্ধু থেকে শুরু করে অনেকের কাছে। আমার লেখার বিপরীতে যুক্তি না শুনে শুনতে হচ্ছে আমি মডারেট ইসলামিস্ট আবার কেউ বলছেন আমি নাস্তিক। এর কারণটা হচ্ছে আমি শুধুমাত্র জন্মগত ধর্মীয় পরিচয় বয়ে বেড়াতে চাই নি বরং চেয়েছি যে ধর্মের পরিচয় গায়ে সেঁটে আছে সেটাকে জানতে এবং প্রশ্ন করতে।

আমার প্রশ্ন যদি সমাজে ছড়িয়ে পড়ে তবে জিডিপিতে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়ে যায় বৈকি! বিশেষত ৯০% মুসলমানের দেশে প্রত্যেকে যদি বিদ্যমান ইসলামের জ্ঞান তাত্ত্বিক অথোরিটিকে চ্যালেঞ্জ করে নিজেরা জানতে শুরু করে তবে ইসলামকে ব্যবহার করে অপরাজনীতি – ব্যবসা বন্ধ হওয়ার সমুহ সম্ভাবনা রয়েছে। গত কয়েক দিন থেকে একটা বিষয় বেশ কানে আসছে যে সমাজে মাদ্রাসা না থাকলে নামাজ পড়াবে কারা? জানাযা পড়াবে কারা? বিয়ে পড়াবে কারা? এমনকি এও শুনেছি সমাজে মোল্লা না থাকলে নাকি আমাদের জন্ম জায়েয হতো না! মানুষ নীরবে এসব মেনেও নিচ্ছে। এর মানেটা কি দাঁড়ায়? ইসলাম যেখানে একটা সাম্যে ভিত্তিতে নির্মিত আধুনিক সমাজের কথা বলে সেখানেও যেন ‘ব্রাহ্মণ’ না হলে চলছে না। ইসলামকে রীতিসর্বস্ব একটি ধর্মে পরিণত করে আখের গুছিয়ে নিতে চান আমাদের মুসলিম ব্রাহ্মণগণ। আর এজন্যই সাধারণ মানুষকে গাফেল রাখারও সূক্ষ্ম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারাই।
বিডিনিউজ ইউরোপ /১৪ জানুয়ারি / জই


আরো বিভন্ন ধরণের নিউজ