• বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৯:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকা ডুবির ঘটনায় বাংলাদেশী নিহত ৮ আহত ২৭ জীবিত উদ্ধার এলাকার উন্নয়নে প্রত্যেক সংসদ সদস্যরা পাবেন ২০ কোটি টাকা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও আমাদের সমাজ রাজনীতির কারণে পুতিনের শত্রুতেও পরিণত হন নাভালনি কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন রাশিয়ার বিরোধী দলীয় নেতা নাভালনি ইংরেজিতেও নতুন AADE সাইট তৈরি করল গ্রিক কর্তৃপক্ষ আওয়ামী লীগের যারা সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেলেন ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে পিছু হটলে গুপ্তহত্যার শিকার হতে পারেন পুতিন : ইলন মাস্ক দেশবরেণ্য আলেম মাওলানা লুৎফর রহমান ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন ফখরুল ও খসরুর জামিন মঞ্জুর মুক্তি পেতে সব বাধা অপসারিত
বিজ্ঞপ্তি
প্রিয় পাঠক আমাদের সাইটে আপনাকে স্বাগতম এই সাইটি নতুন ভাবে করা হয়েছে। তাই ১৫ই অক্টোবর ২০২০ সাল এর আগের নিউজ গুলো দেখতে ভিজিট করুন : old.bdnewseu24.com

ইসলাম কি ধর্ষণকে জায়েয করে? -জাফর মুহাম্মদ

গোলাম মোস্তফা রাজনৈতিক প্রতিবেদক ঢাকা
আপডেট : শনিবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২১

ইসলাম কি ধর্ষণকে জায়েয করে? -জাফর মুহাম্মদ

ইসলাম কি রেইপ বা ধর্ষণকে জায়েয করে? দেশে যে কোনো রেইপ বা অন্য কোনো ঘটনা ঘটলেই শুরু হয় সোস্যাল মিডিয়া জাজমেন্ট। আমরা খুব কমই দাবি করি সুষ্ঠু তদন্তের, সুষ্ঠু বিচারিক প্রক্রিয়ার। দেশ যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন ইনসাফের লড়াই শেষ হতে পারে না।

একটা মেয়ে রাতের বেলায় বাইরে গিয়েছে ওষুধ আনতে, ধর্ষণের শিকার হয়েছে! মেয়েটি রাতে বাইরে গেল কেন? বিষয়টা কী এমন তাকে ধর্ষণ করা অপরাধ কিন্তু একটু কম অপরাধ?
একটা মেয়ে বন্ধুদের সাথে গ্রুপ স্টাডি করতে গিয়ে কিংবা ধরলাম আড্ডা দিতে গিয়ে গ্যাং রেইপের শিকার। এখানে “দোষটা” শুধুমাত্র মেয়ের না সাথে তার পরিবারেরও! শুরু হল সোস্যাল মিডিয়া ব্লেমিং। কোনো মানুষ যদি নিজেকে ন্যূনতম শিক্ষিত কিংবা বিবেকবান দাবি করেন তবে তিনি কি এই জায়গাগুলোতে নিজেকে প্রশ্ন করতে পারেন, যে তিনি কী করছেন আর কেনই বা করছেন!
যখন সোহাগী জাহান তনুকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় তখন আপনারা কী বলেছিলেন? নুসরাত? পূজা? কৃত্তিকা ত্রিপুরা? বেগমগঞ্জের ধর্ষণ? সিলেটের এম সি কলেজের ধর্ষণ?

আমরা যখন সোস্যাল মিডিয়ায় ঘটনাকে সুষ্ঠুভাবে না জেনেই রায় দিচ্ছি, অন্ধভাবেই নিজেকে বিচারকের চেয়ারে বসিয়ে ন্যূনতম চিন্তাভাবনা না করেই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি, তখন সমাজে তা ধর্ষণের পক্ষেই সম্মতি উৎপাদন করে।

এবার আসি আরেকটি বিন্দুতে, বলতে পারেন বাংলাদেশের মুসলমানদের ৯৯ শতাংশই একমত নারীরা ঘরের বাইরে বের না হলে কিংবা সহ-শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করা গেলে ধর্ষণ বন্ধ করা যেতো! নারী-পুরুষের অবাধ চলাচল বন্ধ করা গেলেও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটত না! আমি এই বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে আসতে চাই না। আমি শুধু একটু তাকাতে চাই শরীয়াহ আইনে পরিচালিত আরব বিশ্বের দিকে। দশ হাজারের মতো প্রবাসী নারী কর্মী জানিয়েছেন তারা ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার। দেশে ফিরেছেন অনেকেই মৃতদেহ হয়ে। পিতা-পুত্র একসাথে “ভোগ” করেছেন তাদের গৃহকর্মীকে! একবিংশ শতাব্দীতে এই ভয়াবহ ঘটনাগুলো ঘটেছে মধ্যপ্রাচ্যে! অবিশ্বাস্য হলেও সত্য তারা তৈরি করেছেন ব্যক্তিগত হারেম, বিভিন্ন দেশের মুদ্রা সংগ্রহের মতো তাদের রয়েছে বিভিন্ন দেশের “রূপসী” নারী সংগ্রহের শখ! তাদের এইসব কৃতকর্মের জন্য যদি ইসলামকে দায়ী করা হয় তাহলে কি আপনি স্বীকার করবেন? অবশ্যই না। আমি নিজেও করবো না। তবে আমি আরেকটু গভীরভাবে দেখার চেষ্টা করবো যে সমস্যাটা আসলে কোথায়?

আমরা হয়তো বলতে পারি, সমাজের বিকাশ যে পদ্ধতিতে হয়েছে সমস্যাটা সেখানেই লুকায়িত। আজকে যারা সমস্যাটাকে কেবল ইসলাম দিয়ে সামাল দিতে চান তারা নিশ্চয়ই এটাও বলবেন যে ঠিক কোন ইসলাম দিয়ে ধর্ষণকে কিভাবে ডিল করা যায়? যে সালাফিয়ান এক্সট্রিম ইসলাম গত দশক থেকে আমাদের দেশে বহুল প্রচারিত হচ্ছে তার ফলাফল হচ্ছে আরব। আরব পুরোদস্তুর ওয়াহাবি ইসলামে বিশ্বাসী আবার এই ধরণের এক্সট্রিম ইসলামের উৎসটা মোটেই কুরআন কিংবা হাদিস না বরং ক্যাপিটালের হাতে। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে আরোও অনেক ঘটনাই সাদাচোখেই বোঝা যাবে। আসুন আমাদের এই বেসামাল মন্তব্য যেগুলোর ভিত্তি সম্পর্কে আমরা নিজেরাই সন্দিহান সেগুলো সম্পর্কে ইসলাম কি বলে, আল্লাহ অনুমান নির্ভর কথা বা মিথ্যা বলতে নিষেধ করে বলেন,
“যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই সেই বিষয়ে অনুমান দ্বারা পরিচালিত হয়ো না। নিশ্চয় কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় ওদের প্রত্যেকের নিকট কৈফিয়ত তলব করা হবে ।” [সূরা বনী ইসরাঈল -৩৬]

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ধারণা বা অনুমান নির্ভর কথা বলা থেকে বিরত থাকার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “সাবধান ! তোমারা ধারনা বা অনুমান থেকে বিরত থাক । কেননা ধারণা বা অনুমান করা হচ্ছে সর্বাধিক বড় মিথ্যা কথা।” [সহীহ মুসলিমঃ ২৫৬৩]

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আরও বলেছেন, আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা কিছু শোনে (বিনা বিচারে) তা-ই বর্ণনা করে।” [মুসলিম, আবু দাউদ, রিয়াযুস স্বা-
লিহীনঃ ১৫৫৫]

সুতরাং, বোঝাই যাচ্ছে যে, ইসলামকে আপনারা ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনের মতো এসব অপরাধ লঘু করণের হাতিয়ার হিসেবে আনছেন সেই ইসলামই তার ‘কোর’ জায়গা থেকে আপনাদের বিপক্ষে দাঁড়াচ্ছে। দিনশেষে বিষয়টা সামাজিক মূল্যবোধের, ফলে সমস্যার সমাধানও আসলে এই জায়গাতে লুকায়িত। সোস্যাল মিডিয়ায় অপরাধকে জায়েয করার ট্রেন্ড চলতে থাকলে সমস্যা বাড়বেই, ফলে এটাকেও কাটিয়ে ওঠা এখন সময়ের দাবি।

লেখক : জাফর মুহাম্মদ (কবি, সংগঠক ও ফিল্মমেকার)।
বিডিনিউজ ইউরোপ /৯ জানুয়ারি / জই


আরো বিভন্ন ধরণের নিউজ